রাজশাহীর তানোর উপজেলায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন মন্ডল (২২) নামের এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে দুই দফা মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আহত রিপন উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের কালনা গ্রামের সাদেকুল কারিগরের ছেলে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নিজ বাড়ির আঙিনায় ও পরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে কালনা গ্রামের লুৎফর রহমানের আমবাগান সংলগ্ন ধানক্ষেতে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপন বাড়ির পাশের জমিতে ঘাস চাষ করেছিলেন। ওই জমিতে অভিযুক্ত মামুনের রাজহাঁস ও ছাগল ঘাস খেতে গেলে বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কালনা গ্রামের হাজী শামসুদ্দিনের ছেলে মামুন, তার বাবা হাজী শামসুদ্দিন ও মা রিপনকে মারধর করে। রিপনকে উদ্ধার করতে গেলে তার বাবা সাদেকুল এবং মাকেও মারধর করা হয়।
এঅবস্থায় আহত রিপন ও তার মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েচিকিৎসা নিয়ে সন্ধ্যায় চার্জারভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কালনা গ্রামের লুৎফর রহমানের আমবাগান এলাকায় পৌঁছালে মামুন ও তার সহযোগীরা আবারও তাদের পথরোধ করে রিপনকে ধানক্ষেতে নিয়ে লোহার রড, হাতুড়ি ও চেইন দিয়ে এলোপাথাড়ী মারধর করা হয়। এসময় অচেতন হলে তাকে মৃত ভেবে ধানক্ষেতের নালায় ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা।
এনিয়ে রিপনের বাবা সাদেকুল কারিগর জানান, আমি দৌড়ে গ্রামে গিয়ে চিৎকার করলে গ্রামবাসী এসে কাদা ও কচুরিপানার ভেতর থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার করে। তখন অচেতন ছিল। তার মাথায় গুরুতর আঘাত ও সারা শরীরজুড়ে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
এঘটনায় আহত রিপনের বাবা সাদেকুল কারিগর বাদী হয়ে তানোর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কালনা গ্রামের হাজী শামসুদ্দিনের ছেলে মামুনকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও মামুনের বাবা হাজী শামসুদ্দিন, বিলশহর গ্রামের আ.লীগ নেতা রবিউল ইসলাম, তার ছেলে মাসুম আলী, মৃত জিয়ারুলের ছেলে আতাউর রহমান ও তরিকুল ইসলাম, মেম্বার শামসুল কসায়ের ছেলে খাইরুল ইসলাম, শাখাওয়াতসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
রিপনের বোন অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে বাঁচানোর জন্য অনেক কাকুতি-মিনতি করেছি। কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি। আমার ভাইকে পশুর মতো পেটানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মামুন ও আহত রিপন সম্পর্কে চাচাতো ভাই মামুনের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলেও দাবি করেন গ্রামবাসীরা।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্তদের বাড়ী ঘেরাও করলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। বর্তমানে কালনা গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনার পর থেকেই আহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব এসআই হাসমতকে দেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ন/দ
রুহুল আমিন, নিজস্ব প্রতিবেদক : 








